আজ সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৮ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: মিসরে মসজিদে নিহত ২৩০ সমবেদনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট!       কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১, আহত-১৫       এস এ পরিবহনের গাড়িতে আগুন ৪৫ লাখ টাকার মালামাল ভস্মিভুত       শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দেড় বছরেও উদ্বোধন হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন       ৯ রানের জয় পেলো খুলনা       শপথ নিলেন জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগবা       প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে গুমের সঙ্গে সরকার জড়িত : মির্জা ফখরুল      
 / মতামত / অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র রুখতে হবে
ডি কে আগরওয়ালা ,ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 23 November, 2017 at 8:13 PM, Count : 74

অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র রুখতে হবেফেসবুক একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কোটি কোটি মানুষের জীবনযাপনের অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে এটি।
ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আগেই জেনে যাচ্ছে অনেক খবরাখবর। বিপন্ন মানবতার পাশে সহায়তার হাত বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ফেসবুক প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। তবে স্বীকার করতেই হবে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নানা অকল্যাণও ডেকে আনছে। বিশেষত ধর্মান্ধ উগ্রবাদী শক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তাদের অপকর্মের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়ায় বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে রংপুরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে একই অপশক্তির কালো হাত জড়িত। রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া ও তারাগঞ্জের সীমান্তবর্তী হিন্দু অধ্যুষিত হরকলি ঠাকুরপাড়ায় বাতাসে এখনো পোড়া গন্ধ। কাটেনি আতঙ্ক, চারদিকে হাহাকার। সাজানো সংসার দুষ্কৃতকারীদের আগুনে চোখের সামনেই ছাই হয়ে গেছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের একজন সুধীর চন্দ্র। ছেলেদেরসহ তার দুই বাড়িতে ছয়টি ঘর পুড়ে গেছে। গরু লুট হয়েছে তিনটি। সুধীরের স্ত্রী দুলালী রানী বলেন, ‘চুলায় ভাত চড়াইছি, এমন সময় ঘরবাড়িতে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। ভাত খাবারও সময় পাই নাই। বাড়ির আমগাছটাও আগুনে পুড়ে গেছে। কাপড়চোপড়, কাঁথা-বালিশ, খাটসবই পুড়ে গেছে চোখের সামনে। এরই মধ্যে ঠাকুরপাড়া গ্রামে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও মালামাল, গরু-ছাগল, টাকাসহ সব কিছু লুট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শুধু ঘর তৈরি করে দিলে তো তাদের সমস্যার সমাধান হবে না।
ক্ষতিগ্রস্ত মসনি বালা জানান, তার তিনটি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মালপত্র সব লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়িতে আধামণের মতো চাল ছিল, তা-ও পুড়ে গেছে। কাঁথা-বালিশ, চাদর, চৌকিসহ সব কিছু পুড়ে গেছে। দুটি গরু ও একটি ছাগল ছিল, তা-ও নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। ঘর তৈরির পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
নরেন চন্দ্র জানান, তার দুটি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। দুটি ছাগল ছিল, লুট করে নিয়ে গেছে। বাড়িতে আগুন দেয়ার কারণে ঘরে থাকা মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। ঘর তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সবাই সহায়-সম্বলহীন। বেশির ভাগই দিনমজুরি ও ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালায়। তাদের দাবি, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
পরিশেষে বলছি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে একদল কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ জ্বালাও-পোড়াও উন্মত্ততায় মেতে উঠলেও বিষয়টি যে শতভাগই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র তা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ রংপুরে টিটু রায় নামের যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার মতো ছবি ও মন্তব্য পেস্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে সে রংপুরের নিজ বাসভূমে অবস্থান করছেন না কয়েক বছর ধরে।
লেখাপড়া না জানা এমন ব্যক্তির পক্ষে ফেসবুক খোলা এবং সেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানে এমন ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করা সম্ভব কিনা তা এখন বড়মাপের প্রশ্ন।
রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী অশিক্ষিত এক নিরীহ যুবকের নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে আপত্তিকর ছবি ও মন্তব্য জুড়ে দেয়া হয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা উচিত। ফেসবুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের যেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কাম্য, তেমন যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে তাদের প্রাপ্য শাস্তিও নিশ্চিত হওয়া দরকার। অতীতে বেশ কয়েকবার এ ধরনের অপকর্ম ঘটলেও দোষীদের আইনের আওতায় না আনার কারণে দুর্বৃত্তদের দুঃসাহস বেড়ে গেছে। ফেসবুককে যারা সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162