আজ সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৮ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: মিসরে মসজিদে নিহত ২৩০ সমবেদনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট!       কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১, আহত-১৫       এস এ পরিবহনের গাড়িতে আগুন ৪৫ লাখ টাকার মালামাল ভস্মিভুত       শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দেড় বছরেও উদ্বোধন হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন       ৯ রানের জয় পেলো খুলনা       শপথ নিলেন জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগবা       প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে গুমের সঙ্গে সরকার জড়িত : মির্জা ফখরুল      
 / জাতীয় / নো-বিসিএস নো-ক্যাডার
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের মহাসমাবেশ কাল
জুয়েল হালদার,ডেসটিনি অনলাইন :
Published : Thursday, 23 November, 2017 at 7:35 PM, Update: 24.11.2017 9:46:40 AM, Count : 2677

নো-বিসিএস নো-ক্যাডারনো-বিসিএস নো-ক্যাডার।এই এক দাবিতে আগামীকাল সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালন করবেন সারাদেশ থেকে আসা সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। নো-বিসিএস নো-ক্যাডার এমন দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষকরা। এ দাবি অনুযায়ী  সরকারি কলেজের ক্লাস বর্জনসহ কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের আভাস দিয়েছেন তারা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতারা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষক সমিতির অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তাদের নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। 

ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন কবীর তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, দাবি একটাই নব্য জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্তি মানি না আমরা। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় আমরা চিন্তিত, শঙ্কিত। মূলত এর প্রতিবাদে দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই আমাদের এ সমাবেশ। আমি জানি শিক্ষা ক্যাডারের সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ হতে চলেছে আজ। বিষয়টা যদি এমন হয় সবাই এলো, নেতারা বড় সমাবেশে গরম বক্তৃতা দিলেন, কিন্তু কোনো কর্মসূচি নেই, তবে এত আয়োজন এত কষ্ট সব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তেমনটি করলে নেতারা চরম ভুলটি করবেন। বিগত দিনে কর্মসূচিবিহীন সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদান ইত্যাদির পর আপনারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। এখন সময় এসেছে নিজেদের শুধরে নেবার। দয়া করে বুদ্ধিদীপ্ত কঠোর কর্মসূচি দেবেন, নয়তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে। একবারই এমন মহাসমাবেশে যোগ দেয়ার দুর্ভাগ্য হয়েছিল আমার ২০০১ সালে। একটা বাসে ভরে অনেকে দাঁড়িয়ে এসেছিলাম সেই মহাসমাবেশে। গোটা বাংলাদেশের সহকর্মীরাও তাই। তখতে তাউস নড়ে উঠেছিল তৎকালীন প্রশাসনযন্ত্রের। তখনকার ভীরু নেতৃত্ব কর্মসূচির ঘোষণা না দিয়ে আলোচনার ফাঁদে পা দিলেন। আমরা ব্যর্থমনোরথে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ফিরে গেলাম! এক সপ্তাহও পেরুতে পারল না। শহীদুল আলমের পকেট থেকে গাজ্জালির (যে গাজ্জালি এখনো এসব আত্তীকৃতদের পেট্রোনাইজ করছেন) নেতৃত্বে ‘বিসিএস সিভিল সার্ভিস শিক্ষা এসোসিয়েশন’-এর জন্ম হয়। পরবর্তী ইতিহাস সবার জানা। তাই সমিতির নেতাদের কাছে আবারো বিনীত অনুরোধ, সত্যিকারে ক্যাডারকে বাঁচাতে চাইলে বুদ্ধিদীপ্ত কঠোর কর্মসূচি দিন, সাধারণের অনুভূতির সাথে বেইমানি করবেন না। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

এদিকে ২৪তম বিসিএস-এ খুলনা সরকারি কলেজের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এস এম কামাল আহম্মেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী জাতীয়করণ সরকারি কলেজের শিক্ষকরা অন্য কলেজে বদলি হতে পারবেন না। জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ অনুযায়ী জিও করার আগে বিধি প্রণয়ন করার দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে মাগুরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও  শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটির  সদস্যসচিব মো. সওকত হোসেন বলেন, বেসরকারিদের সরকারিকরণে কোনো আপত্তি নেই। তবে বিসিএসবহিভর্‚ত কাউকে ক্যাডারভুক্ত করা যাবে না। অন্য কোনো ক্যাডারে আত্তীকরণের সুযোগ নেই। এভাবে আত্তীকরণ যেমন ক্যাডার সার্ভিসের পরিপন্থী এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিকও বটে। আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সার্ভিস রুলের মধ্যে থেকে সর্ববৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলব।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. শাহেদ চৌধুরী বলেন, ক্যাডার সার্ভিস নিয়োগবহির্ভূত ২০১০ সালের যে শিক্ষা নীতি তার ২৭ নম্বর অধ্যায়ে কলেজ জাতীয়করণ করার যে নীতিমালা আছে সেটার বাস্তবায়ন করা জরুরি। আর যে সমস্ত কলেজ জাতীয়করণ হবে সেগুলোর জন্য আলাদা নীতিমালা বা বিধিমালা করতে হবে। আর সেই কলেজের শিক্ষকদের জন্য নিজস্ব বিধিমালা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি এই বিধিমালায় যারা পিএসসি-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত তাদের প্রটেকশন দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন,  সরকারকে সব সময়ই বলে এসেছি যে বিধিমালাটা যাতে জারি করা হয়। শাহেদ চৌধুৃরী বলেন, এখন আমাদের শিক্ষা ক্যাডারে বিরাট একটা সংখ্যা হচ্ছে জুনিয়র সহকর্মী। যদি আমাদের ১৫ হাজার কর্মকর্তা হয়, এর মধ্যে ১০ হাজার হচ্ছে জুনিয়র সহকর্মী এবং এরা সবচেয়ে বেশি সাফারিং হবে। বেসরকারি কলেজে প্রায় ২০ হাজার কর্মকর্তা, তারা যদি ক্যাডারভুক্ত হয়ে যায় শুধু সেটাই না, আমরা বলার চেষ্টা করেছি আলটিমেটলি এডুকেশনটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই আমাদের একটা অবস্থান আছে। সার্ভিসের অনেকগুলো নিয়ম আছে সেগুলো যাতে ত্বরান্বিত না হয় সেগুলো আমরা দেখব। প্রায় ২০১০ সালে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। এ বিধিমালা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যেহেতু সাত বছরেও হয়নি, এর মাঝে কিছু কলেজ জাতীয়করণ হয়ে গেছে এবং ওই কলেজের শিক্ষকরা ক্যাডারে ঢুকে গেছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি যাতে সামগ্রিকভাবে কোনো ক্ষতি না হয়। যে ১২টি মডেল কলেজ আছে সেগুলো কিন্তু জাতীয়করণ করা হয়ে গেছে।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিমুল্লাহ খন্দকার বলেন, জাতীয়করণ করা কলেজ শিক্ষকদের কাডারে অন্তর্ভুক্তি হলে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমাদের ক্ষতি করে কিছুতেই তাদের ক্যাডারভুক্তের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবেন। সে কারণে আমাদের কর্মসূচি কিছুটা পেছানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৪ নভেম্বর (আজ) সভা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। আশা করছি লাগাতার ক্লাস বর্জনসহ কঠোর কিছু কর্মসূচি দেয়া হবে।
এ বিষয়ে আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, সরকারি চাকরির বিধিবিধান ও শিক্ষানীতির আলোকে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা না করে বিষয়টি আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গেছেন। আমলতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে শিক্ষকরা ক্লাসবিমুখ হয়ে আন্দোলন করছেন। বিষয়টি মীমাংসা করতে সরকার যত বিলম্ব করবে শিক্ষাব্যবস্থা তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাল্টাপাল্টি মামলা হবে। 
বিসিএস শিক্ষা সমিতির একাধিক নেতা বলেন, জাতীয়করণের ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন না। কারণ বদলি না হতে পারা হচ্ছে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈশিষ্ট্য। ক্যাডার কর্মকর্তারা বদলি হতে পারবেন। তবে বিষয়টি জটিল করে তুলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি স্কুল ও কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৮৪টি কলেজ জাতীয়করণের জন্য অর্থছাড়ের সম্মতি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওইসব কলেজের সকল সম্পত্তি সরকারকে ডিড অব গিফট (দানপত্র) দলিল সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠান সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষরা। কিন্তু ১০ মাস পার হতে চলল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি এবং সরকারীকরণকৃত কলেজ শিক্ষক সমিতির দন্ধে জাতীয়করণের সরকারি নির্দেশ (জিও) জারি করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের দাবি আত্তীকৃত শিক্ষকদের ‘নন-ক্যাডার’ ঘোষণা করে বিধি জারি করতে হবে। অপর সংগঠন চাচ্ছে, সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের ক্যাডারভুক্ত করতে। নিজ নিজ দাবি আদায়ে দুই সংগঠন কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতারা।
এর আগে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণের প্রতিবাদে গত ১৩ অক্টোবর কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। কর্মসূচি অনুযায়ী সকল বিভাগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং সমাবেশ থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের নন-ক্যাডার ঘোষণার আলটিমেটামও দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় পরের দিন (১৭ নভেম্বর) ঢাকায় মহাসমাবেশ করে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও সেখান থেকে কিছুটা সরে আসেন সংগঠনের নেতারা।
বিগত সময় জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে আসছে সরকার। বর্তমান সরকারের আমলে জাতীয়করণ করা ৪৬টি কলেজের শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা হয়। ২০০০ সালে তৈরি করা আত্তীকরণ বিধিমালা অনুসরণ করে শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্তিতে আপত্তি করেননি সমিতির নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারি কলেজবিহীন উপজেলায় কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের পরই বিরোধিতা করে আসছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতারা। তবে সংগঠনের নেতাদের দাবি, আগে সংখ্যা কম হওয়ায় তারা বিরোধিতা করেননি।



দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162