আজ সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৮ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: মিসরে মসজিদে নিহত ২৩০ সমবেদনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট!       কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১, আহত-১৫       এস এ পরিবহনের গাড়িতে আগুন ৪৫ লাখ টাকার মালামাল ভস্মিভুত       শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দেড় বছরেও উদ্বোধন হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন       ৯ রানের জয় পেলো খুলনা       শপথ নিলেন জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগবা       প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে গুমের সঙ্গে সরকার জড়িত : মির্জা ফখরুল      
 / ডেসটিনি সংবাদ / বারো বছরে ‘দৈনিক ডেসটিনি’ আনন্দে বেদনার অশ্রু
খাজা খন্দকার
Published : Tuesday, 20 June, 2017 at 10:15 PM, Count : 5443
বারো বছরে ‘দৈনিক ডেসটিনি’ আনন্দে বেদনার অশ্রুকখনো কখনো আনন্দময় মুহূর্ত বিষাদময় হয়ে ওঠে। এ সময় বেদনার সেই ঢেউই যেন লেগেছে ‘দৈনিক ডেসটিনি’র সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে। এ যে প্রিয়দিন জন্মদিন, যুগপূর্তির শুভক্ষণ, এগারো বছর অতিক্রম করে ‘দৈনিক ডেসটিনি’ পা দিল বারোতে। সেই শুরু থেকে দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যের প্রতি অবিচল থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও সুশাসনের বিকাশে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে এ সংবাদমাধ্যমটি। 

অভিভাবকহীন বলা যায়, পাঁচ বছরেরও অধিককাল যিনি এই সমাজ বিকাশমান পত্রিকার প্রাণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বিনা বিচারে কারাগারে। তাও এমন একটা সময় যখন মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায়, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বিদ্যমান। সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সমাজের দর্পণ। সেই দর্পণের কাচ এতটাই ঘোলা যে, সংশ্লিষ্টদের চোখেই পড়ল না এত বড় একটা অনিয়ম। অপরাধ করলে শাস্তি হবে কিন্তু সেই অপরাধ চিহ্নিত হওয়ার আগেই শাস্তি ভোগ এ কেমন নাগরিক অধিকার? সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ, আর কী বিচিত্র এই মানুষ!

দেশের অস্থির একটা সময়ে ‘দৈনিক ডেসটিনি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল। সে সময় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চলার সঙ্গী ছিল এই পত্রিকাটি। আজ প্রায় ৫ বছরে ১০টি ঈদ তিনি করতে পারেননি জেলে থাকার কারণে। অতিকষ্টে জীবনযাপন করছেন সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভেবেছিলাম জন্মকথা, আনন্দ কথা লিখব। যে পথ অতিক্রম করেছি, যে পথ পাড়ি দেব সেই কথাই লিখব। হই-হুল্লোড়ের এই মুহূর্তে কষ্টের অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে আসে চোখ। 

জন্মদিনে একথা কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে এতটুকুই বলব কাউকে বিব্রত করতে এই লেখা নয়। অধিকারবঞ্চিত নাগরিকরা নালিশ না করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি করে? দেশকে ভালোবেসে একজন মোহাম্মদ রফিকুল আমীন আয়েশি জীবন ছেড়ে কেন সুদূর কানাডা থেকে এসেছেন সেটা জানাও জরুরি। তিনি কীভাবে উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, কীভাবে হয়ে উঠলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সেই মেসেজটাই পাঠকদের জানানোর উদ্দেশ্য আমাদের।

মোহাম্মদ রফিকুল আমীন দেশে আসেন ব্যবসা করার জন্য। তিনি একসময় দাবা খেলতেন, দাবা নিয়ে ‘কিস্তি মাত’ নামে একটি পত্রিকা বের করতেন। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন দৈনিক পত্রিকা বের করার। এরপর ব্যবসা ও মিডিয়া দুই ক্ষেত্রেই তিনি সফল হয়েছিলেন। দেশ, মানুষ ও সমাজের জন্য কাজ করতে এসে এখন বিনাবিচারে কারাভোগ করছেন। অবশেষে মহামান্য হাইকোর্টে দ্বৈত বেঞ্চে দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক, বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে তাদের দ্বৈত নাগরিকের পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেয়ার শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিলেন। একবাক্যে সেই জামিন দেওয়াকে মানবাধিকারের জয়, সুশাসনের জয়, স্বাধীন বিচার বিভাগের জয়, সংবাদপত্র বিকাশের জয়, সর্বোপরি গণতন্ত্রের জয় বললেও কম বলা হবে। এজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিচার বিভাগের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলাম।

আক্ষেপ নয় ‘দৈনিক ডেসটিনি’ ও ‘বৈশাখী টেলিভিশন’-এর হাজারেরও বেশি সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি ডেসটিনি গ্রুপের পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারের সদস্যরাও এই কৃতজ্ঞতার সাথে একমত পোষণ করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শোকরানা জানিয়েছিল। সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দও অভিন্দন জানিয়েছিলেন জামিনের সেই আদেশে।

সাংবাদিকবান্ধব মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে এই জামিন দেয়ায় লগ্নীকৃত ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের প্রায় আড়াই কোটি পরিবারের সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন, সারাদেশে ডেসটিনি গ্রুপের বিনিয়োগকারীরা দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতের মাধ্যমে শোকরানা আদায় করেছিলেন মহান আল্লাহতালার প্রতিও। ক্রেতা-পরিবেশকরা ভীষণ খুশি, তাদের প্রিয় মানুষরা জামিন পেয়েছিলেন। সত্যি অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার যে, তারা বিনিয়োগ নিয়ে যতটা না চিন্তিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসাইনের সুস্বাস্থ্য নিয়ে। এতেই বোঝা যায় এ দুজন মানুষ কতটা আপন এবং কতটা কাছের ছিলেন বিনিয়োগকারীদের? 

আমরা জানি কেউ ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে নয়, তারও একটা শেষ আছে। কিন্তু এটা কেমন ষড়যন্ত্র যার জাল ছিঁড়তে দীর্ঘ অপেক্ষা? কোটি পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন সেসব পাষ-ের মনে কোনো রেখাপাত করল না? সরকারপক্ষের আইনজীবীর এক খোঁড়া অভিযোগে একটা শুভ উদ্যোগকে থমকে দেওয়া হলো? আমরা শুনে এসেছি মানুষ মানুষের জন্য, সে সহানুভূতি কি আমরা পেতে পারি না? এটা কোনো অভিযোগ নয়, বিনাবিচারে কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ কারাভোগ করলে সঙ্গত কারণেই মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়। মোহাম্মদ রফিকুল আমীন শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীই নন; একাধারে তিনি একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বও বটে, গণতন্ত্র ও সভ্যতা বিকাশে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দৈনিক ডেসটিনি, বৈশাখী টেলিভিশন, দৈনিক সকাল সাতটা, দৈনিক ভোরের ছবি, দৈনিক ফ্রি ডায়ালগসহ আরো কয়েকটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে খ্যাত মিডিয়ার মালিক। দেশের পবিত্র সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার এই প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে, ভবিষ্যতেও রাখবে।

‘দৈনিক ডেসটিনি’র সম্পাদকসহ গ্রুপের মালিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা নিয়েও আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, তার সত্যতা যাচাই-বাছাই আইনের বিষয়, দোষী-নির্দোষী সেটিও সময় বলে দেবে। বিশেষ করে যাদের অর্থ লগ্নি হয়ে আছে তারা লগ্নীকৃত অর্থ ফেরত না চেয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জামিনের দাবিতে সোচ্চার। এতে কি প্রমাণ করে সেটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে। সেক্ষেত্রে স্বাধীন মত প্রকাশের গুরুত্ব অপরিসীম তা অবজ্ঞা করার কোনো উপায় নেই, ক্রেতা-পরিবেশকদের এই মতামতেরও মূল্য অনেক। 

বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, কর্মসংস্থানে, সংবাদপত্র বিকাশে ডেসটিনি গ্রুপের অসামান্য অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, এটাকে খাটো করে দেখারও কোনো উপায় নেই। আগের মতো তারা যেন তাদের কর্মকা- নির্বিঘ্নে করতে পারে সেটিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যাতে কর্মকা- ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দেশের উন্নয়নের জন্য, বেকারমুক্ত বাংলাদেশ অর্থাৎ ব্যাপক কর্মসংস্থান করাও সরকারের উদেশ্য, প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে ৪৫ লাখ মানুষকে কর্মমুখী করেছিল ডেসটিনি।

অবশেষে মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট রায় দিলেন ২৮০০ কোটি টাকা ৬ (ছয়) সপ্তাহের মধ্যে কেবলমাত্র ৩৫ লক্ষ গাছ কেটে বিক্রি করে দুদক চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট জমা দিলে জামিন পাবেন ‘দৈনিক ডেসটিনি’র সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসাইন। আমরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এই রায়কে ইতিবাচক ভেবেই মেনে নিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আদৌ বিপুল পরিমাণ গাছ কোম্পানির অবকাঠামো এবং কর্মচারীবিহীন অবস্থায় কেটে ৬ (ছয়) সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি করে এতগুলো টাকা দেয়া সম্ভব কি না? যেখানে কোম্পানির সকল ব্যাংক হিসাব ৫ (পাঁচ) বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ও জব্দ হয়ে আছে, যেখানে কর্মচারী ও পাহারাদারবিহীন অবহেলিত বাগানগুলোর গাছ প্রতিদিন লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুর্বৃত্তরা, যেখানে ঐ সকল গাছের মালিকানা একবার হস্তান্তর করা হয়েছে বেশ কিছু বিনিয়োগকারীর মাঝে। তারা কি মেনে নেবে যে, তাদের ক্রয়কৃত প্যাকেজের বৃক্ষরাজি কোম্পানি আবার অন্য কারো কাছে বিক্রি করবে? ইত্যাদি প্রশ্ন তো থেকেই যায়। 

আজকের এই আনন্দের দিনে লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারপরও বেদনার অশ্রুপাতই করতে হচ্ছে আমাদের। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, দেশের গণতান্ত্রিক সরকার ও বিচার বিভাগ সাংবাদিকসহ এতগুলো মানুষের কথা ভেবে দৈনিক ডেসটিনি সম্পাদকের জামিনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। 

(উল্লেখ্য, গত ৯ জুন দৈনিক ডেসটিনি ১২ বছরে পা রেখেছে।২১ জুন ২০১৭ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে ।)


দৈনিক ডেসটিনি’র অনলাইনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিয়া বাবর হোসেন।
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডেসটিনি.কম
আলী’স সেন্টার, ৪০ বিজয়নগর ঢাকা-১০০০।
বিজ্ঞাপন : ০১৫৩৬১৭০০২৪, ৭১৭০২৮০
email: ddaddtoday@gmail.com, ওয়েবসাইট : www.dainik-destiny.com
ই-মেইল : destinyout@yahoo.com, অনলাইন নিউজ : destinyonline24@gmail.com
Destiny Online : +8801719 472 162